তোমরা এক সঙ্গে চল,এক মন্ত্র উচ্চারন কর,
সমিতি গঠন করে ঐক্যবদ্ধ থাক ,কখনো বিচ্ছিন্ন হয়ো না
ঋগ্বেদের সর্বশেষ মন্ত্রে মনুষ্য সমাজের উদ্দেশ্যে ভগবানের নির্দেশ।।

স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও এদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাগ্যের আজও কোনো পরিবর্তন হয়নি ।আজও তারা স্বাধীনতার স্বাদ লাভ করতে পারেনি । এদেশে প্রতিবারই নির্বাচন হয়;কোন না কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট নিয়েই । তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় ঠিকই কিন্তু এদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ই না বরং প্রতিটি নির্বাচনের আগে ও পরে তাদের জীবনে নেমে আসে অমানিশার কালোমেঘ । নির্বাচন  হিন্দুদের জন্য নির্যাতন , পরিনত হয় । হিন্দু আজ অস্তিত্বহীনতার দ্বারপ্রান্তে ; অথচ কারো অমঙ্গল নয় ; কারো বিরুদ্ধে আগ্রাসন নয় ;সকল প্রানীর কল্যানই এ জাতির ধর্ম –আদর্শ । হিন্দু প্রত্যহ প্রার্থনা করে সর্বোষাং মঙ্গালাং ভুয়াৎ, সর্বে সন্ত নিরাময়াঃ সর্বে ভদ্রানি পশ্যন্ত, মা কশ্চিদ্ দুঃখভাগ ভবেৎ ।অথচ হাজার বছরের নির্যাতন ,নিপীরন , ধ্বংসযজ্ঞ, হত্যা,লুন্ঠনের ফলে ১০০% হিন্দু দেশ আজ মাত্র ১৫%-এ ঠেকেছে । রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব হীন জাতি বিলুপ্ত হতে  বাধ্য । বৈদিক দর্শন ও বিধান মতে আমরা পৃথিবীর সকল হিন্দু প্রত্যেকে প্রত্যেকের আত্মীয় । আমরা আমাদের এ ঐতিহ্য এবং গর্ব ধরে রাখা এবং হৃত গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সকলের  নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য । এ মহান দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে হিন্দু ও  হিন্দুত্ব রক্ষার তাগিদে আমাদের সামাজিক , ধর্মীয় ,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক  অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে ।যে হিন্দু সমাজ বিশ্ব কল্যানের আকুতি  ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে একদিন পৃথিবীর বুকে মহাশান্তির বিজয় পতাকা উড্ডয়ন করেছিল,সেই হিন্দু কি বিলুপ্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে ? হিন্দু সমাজের নিদ্রা ভঙ্গ কি হবে না ? হিন্দু জাগরনের প্রত্যয় নিয়ে বৈদিক দর্শন ও সনাতন হিন্দু ধর্মের শাশ্বত বানী ও দিক নির্দেশনা গুলোকে বুকের মাঝে গ্রথিত করে বাংলাদেশের হিন্দু সমাজে বিরাজিত সম্প্রদায়ের উপাসনা পদ্ধতি এবং ধর্ম আচার ও অনুষ্ঠানগত সকল মত ও পথের সকলকেই একই স্রোতধারায় নিয়ে এসে মহাজাগরন ঘটাতে প্রায়াসী । সেই লক্ষে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে গঠন করা হয়েছে –“বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটহিন্দু মহাজোট বাংলাদেশের সকল হিন্দু সমাজের হিন্দুত্ব রক্ষায় ধর্মীয় ,সামাজিক , সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সংগঠন ।এই লক্ষকে সামনে নিয়ে  –“বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট দফা দাবির সমার্থনে ব্যাপক প্রচার কর্মসুচি হাতে নিয়েছে ।

>> জাতিয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যাবস্থা পুন:প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
>> দুর্গা পূজায় ৩ দিনের ও রথযাত্রায় ১ দিনের সরকারি ছুটির ঘোষনা করতে হবে।
>> সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রনালয় ও সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
>> সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি চাকুরিতে ২০% কোটার ব্যাবস্থা করতে হবে।
>> হিন্দু পারিবারিক আইনে কোন পরিবর্তন ,সংযোজন করা চলবে না ও হিন্দু বিবাহ আইন বাতিল করতে হবে ।
>> রমনা কালি মন্দির সহ সকল বেদখলকৃত মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ,যাদুঘরে সংরক্ষিত দেববিগ্রহ সহ সকল উদ্ধারকৃত দেব বিগ্রহ পুজার জন্যহিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ফেরত দিতে হবে ।
>> একটি বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও টোল শিক্ষা ব্যাবস্থা পুন:জাগরিত করতে হবে ।

হিন্দু অস্তিত্ব সংকটের এ ক্রন্তিলগ্নে সচেতন ছাত্র ও যুব সমাজ ঘরে বসে থাকতে পারে না ।তাই অঙ্গ সংগঠন হিসাবে গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট ,হিন্দু যুব মহাজোট ,হিন্দু মহিলা মহাজোট ,হিন্দু আইনজীবী মহাজোট , হিন্দু শিক্ষক মহাজোট হিন্দু সাংস্কৃতিক মহাজো ’’সারাদেশে দাবীর প্রতি জন সমর্থন আদায়ের লক্ষে জনসংযোগ চলছে । জেলা,উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় ছাত্র , যুব , মহিলা ,আইনজীবী , শিক্ষক সাংস্কৃতিক মহাজোটের গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । আপনারা যারা হিন্দুত্ববোধ ও হিন্দু রক্ষার সংগ্রামে সম্পৃক্ত হতে চান –তাদের কে মহাজোটের পতাকাতলে সমবেত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো যাচ্ছে । আপনার সমর্থন ,সক্রিয় অংশগ্রহন ও সুপারিশ হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষায় সহায়ক হবে বলে আশা করছি ।